ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ কি অন্ধকার? - সজীব রহমান

ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ কি অন্ধকার?

গুরুজনঃ ছেলে কি করে?
আমার মাঃ এইতো কম্পিউটারে বিদেশিদের কাজ করে।
গুরুজনঃ ভবিষ্যৎ তো তাহলে অন্ধকার। পড়াশোনা না করিয়ে এই লাইনে প্রবেশ করার সুযোগ দিয়েছো কেনো?
মাঃ ওর নিজ ইচ্ছা থেকেই করছে, তাই বাঁধা দেই না। আর তাছাড়া তো ভালো আয় রোজগার ও করছে।
গুরুজনঃ ওসবে কিচ্ছু হবে না। ২ দিন পর দেখবে ঘরে বসে মাছি মারছে। তার চেয়ে ইঞ্জিনিয়ার, টিঞ্জিনিয়ার বানিয়ে একটা চাকুরিতে বসিয়ে দাও। তাহলে অন্তত নিজের জীবনের আর্থিক নিশ্চয়তা দিতে পারবে।

এই হলো আমাদের বড়দের উপদেশ বানী। সবাই আর্থিক নিশ্চয়তা বলে বোঝে গৎবাঁধা চাকুরি। ব্যাংকার হও, একাউন্টেন্ট হও, কেরানী হও, ইঞ্জিনিয়ার হও। আর সকারী চাকুরি হলেতো মাথাই নষ্ট, পিয়নের চাকুরি হলেও করো।

এসবের একটাই কারণ, আর্থিক নিশ্চয়তা। কিন্তু এসবের বাহিরেও একটি জগত আছে, আছে স্বাধীন ভাবে কাজ করে নিশ্চত ক্যারিয়ার গড়ার পথ। আর সেটা হলো ফ্রিল্যান্সিং অথবা আউটসোর্সিং। কিন্তু অত্যান্ত দুঃখের বিষয় হলো অনেকেই বিশ্বাস করে না যে ফ্রিল্যান্সিং হতে পারে একজনের প্রধান ক্যারিয়ার। কারণ আমাদের জানায়, আমাদের চিন্তাধারায় রয়েছে অনেক ভুল। আর এই কারণেই কম্পিউটারের সামনে বসলেই মনে করে পোলাপাইন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু অদ্য কি তাই?

তাছাড়া আর কিছু মানুষ রয়েছেন যারা ফ্রিল্যান্সিং করতে চান অথবা কেবল শুরু করেছেন, তারাও ভুগছেন দ্বিধার মধ্যে। পারবো তো? লাইফ নষ্ট করছি না তো? কাজ কাম অদ্যও থাকবে তো? ২-৩ বছর পর হারিয়ে যাবে না তো? এমন আরো হাজারো প্রশ্ন। আর এইসব প্রশ্ন আসাও স্বাভাবিক, কারণ একজন যখন কোন ক্যারিয়ারের দিকে পা বাড়ান তখন তাকে অনেক কিছুই ছেড়ে দিতে হয়, কিছুটা ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হয়, অনেক সময় দিতে হয়। তাই অনেক সময় বলে ওঠেন “থাক ভাই, যা করছি সেটাই করি”

আর এই কারণেই অনেকেই দিন দিন ফ্রিল্যান্সিং এর থেকে সরে যাচ্ছেন। হারাচ্ছেন একটি উজ্জ্বল ক্যারিয়ারের সুযোগ। আর আজ আমি এই পোস্টের মাধ্যমে আপনাদের সামনে তুলে ধরবো যে কেন ফ্রিল্যান্সিং এই নিশ্চিত ক্যারিয়ার। কেন ফ্রিল্যান্সিং করে ও আপনি অনায়াসে আপনার জীবন পাড়ি দিতে পারবেন। তো শুরু করি।

ফ্রিল্যান্সিং বন্ধ হবার সুযোগ নেই কারণ

সভ্যতার শুরু থেকেই মানুষ যা পারে না তা অন্য যে পারে তাকে দিয়ে করিয়ে নেয়। আগের দিনে হয়তো হত পণ্যের বিনিময়ে কিন্তু বর্তমান সময়ে সেটা হয় অর্থের বিনিময়ে। এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা চলতে থাকবে। আমি একজন অনেক ভালো লেখক, কিন্তু আমি তো বইয়ের কাভার ডিজাইন করতে পারি না। তার মানে তো এই নয় যে আমার লেখা কখনো প্রকাশ পাবে না। তখন আমি ঠিকই যিনি বইয়ের কভার ডিজাইন করেন তার শরণাপন্ন হব এবং অর্থের বিনিময়ে তার কাছে থেকে ডিজাইন করিয়ে নেবো। এভাবেই চলতে থাকবে কাজের আদান প্রদান।

আর বর্তমান যুগ প্রযুক্তির যুগ। আপনি চাইলেই আমেরিকার কোন বিল্ডিং ডিজাইনারের কাছ থেকে ডিজাইন করিয়ে নিতে পারেন। আর সেই সুযোগে পৃথিবীর কিছু বড় প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন কিছু মার্কেটপ্লেস। যেখানে একজন খুব সহজেই কাজ খুঁজে পেতে পারেন এবং করতে পারেন। আর এই মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে যে সকল কাজ করা হয় তাকেই আমরা ফ্রিল্যান্সিং বলে থাকি। আপনি একবার ভাবুন তো পৃথিবীতে কি বিল্ডিং তৈরি হওয়া বন্ধ হবে কোন দিন? যদি না হয় তাহলে ডিজাইন করাও কি কখন ও বন্ধ হবে? আর সেটা যদি বন্ধ না হয় তাহলে অবশ্যই ডিজাইনারদের কাজের অভাব হবে না। তাই যেহেতু কাজের অভাব হবে না সেহেতু ফ্রিল্যান্সিং ও বন্ধ হবে না।

এরপর ও হয়তো অনেকে বলবেন যে আচ্ছা কোন ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সিং করলে নিশ্চিতে ক্যারিয়ার গড়ে তোলা যায়? আচ্ছা, তাহলে জেনে নিন কিছু পরিচিত এবং অত্যান্ত স্মার্ট ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে

১ – হয়ে উঠুন একজন ভালো ডিজাইনার

be-a-designerকারণ পৃথিবী যতদিন আছে ততোদিন ডিজানের গুরুত্ব থাকবেই। কারণ আপনার বাসার টয়লেট পেপার থেকে শুরু করে বারাক ওবামার বার্গারের প্যাকেটেও প্রয়োজন হয় ডিজাইনের। ডিজাইন বলতে অনেক ধরনের ডিজাইন হতে পারে। তবে ফ্রিল্যান্সিং এ গ্রাফিক্স ডিজাইনের তুলো না হয় না। দিন যত বাড়ছে পণ্য ততো বাড়ছে। আর পণ্য যত বাড়ছে, ততো ডিজাইনের চাহিদাও বাড়ছে। আর গ্রাফিক্স এর কাজ নেই এমন কিছু পাওয়াও দুষ্কর। তাই যদি আপনি চান আপনার সারাজীবন পাড়ি দিবেন ফ্রিল্যান্সিং করে তাহলে নিশ্চিতে হয়ে উঠুন একজন গ্রাফিক্স ডিজাইন। কারণ পৃথিবীর শেষ পর্যন্তও এই গ্রাফিক্স প্রয়োজন হবেই। হয়তো এখন কাজ করছেন ফটোশপ দিয়ে, ১০ বছর পরে হয়তো অন্য কিছু আসবে। অন্য প্রযুক্তি আসবে। কিন্তু ডিজান কনসেপ্ট কখনই চেঞ্জ হবে না। তাই আপনি যদি চলমান সব আপডেট এর সাথে মিল রেখে একজন ডিজাইনার হতে পারেন তাহলে আপনার নিশ্চিত ক্যারিয়ারের পথে আর কোন বাঁধাই থাকবে না।

২ -নিশ্চিত ক্যারিয়ার হতে পারে লেখা-লিখি করেও

article-writerলেখালিখি হতে পারে ফ্রিল্যান্সিং এ অন্যতম নিশ্চিত একটি ক্ষেত্র। কারণ আমাদের পৃথিবীতে মুখের ভাষার পরেই হচ্ছে কলমের ভাষা। মনের সব কথা মুখে না বলেও লিখে প্রকাশ করা যায়। যেমন এখন আমি করছি 😀 আর আপনি যদি একজন ভালো মানের লেখক হন তাহলে আপনার ক্যারিয়ার গড়ার জন্য ফ্রিল্যান্সিং হতে পারে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। কারণ এই যুগে লেখার কোন বিকল্প নেই। লেখার মাধ্যমে একটি বিষয়কে সবার সামনে খুব সুন্দর করে তুলে ধরতে পারবেন। ধরুন আপনার একটি পণ্য আছে অনলাইনে অথবা লোকালে। এখন আপনি যদি সেই পণ্যের শুধু ছবি টানিয়ে রাখেন তাহলে কি কেউ আগ্রহ প্রকাশ করবে সেটি কেনার জন্য? উত্তর হবে না। কারণ মানুষ আগে যাচায় করে নেয় তার পর ক্রয় করে। আর সেই পণ্যের ছবির সাথে যদি আপনি একটি বিস্তারিত লিখে তারপর সবার সামনে উপস্থাপন করতেন তাহলে সবাই একনজরেই বুঝে ফেলতো যে আপনার পণ্য কি বা কেন সবাই কিনবে। তার মানে বুঝতে পেরেছেন তো? একজন রাইটারকে সব স্থানেই লাগবে, ছোটদের কবিতা লেখা থেকে শুরু করে বিজ্ঞানীদের থিসিসের মুলবস্ত লেখার জন্য। তাই এই ক্ষেত্রও শেষ হচ্ছে না কোন দিন। যতদিন পণ্য আছে ততো দিন লেখা লেখি ও রয়েছে। এর জন্য যারা লিখতে পছন্দ করেন তারা হয়ে উঠুন একজন প্রফেশনাল রাইটার হিসাবে।

৩ – ইন্টারনেট মার্কেটিং ছাড়া সব অচল

internet-marketerমেনে নিলাম একটি পণ্যের প্রথম সারির কাজের মধ্যে গ্রাফিক্স, রাইটিং অন্যতম। কিন্তু এর প্রধান উদ্দেশ্য কি? অবশ্যই পণ্যকে সবার কাছে পৌঁছে দেয়া তাই না? আর যদি সেটা হয় তাহলে অবশ্যই মার্কেটিং করতে হবে। তাই মার্কেটিং ছাড়া এসব কিছুর কোন মুল্য নেই। আর এখন পৃথিবী হয়ে উঠছে ইন্টারনেট ভিত্তিক। কোমল পানীয় খেতে গেলো এখন অনেকে অনলাইনেই অর্ডার করে। তারা বাসায় এসে হাতে পৌঁছে দেয় তাঁদের পণ্য। তাই দিন দিন চাহিদা বাড়ছে ইন্টারনেট মার্কেটারদের। অনলাইনে যেহেতু সব কেনাকাটা হচ্ছে তাই কিভাবে সঠিক এবং টার্গেটেড কাস্টমারদের হাতে সেবা বা পণ্য পৌঁছে দেয়া যায় তার জন্য প্রয়োজন হয় একটি ভালো রিসার্চ এর। যা একজন ইন্টারনেট মার্কেটার করে থাকেন। এবং তিনিই সেই সেবা বা পণ্যের মার্কেটিং করেন। এবং সামনে পৃথিবী আরো বেশি অনলাইন নির্ভর হয়ে পড়বে। তখন এই ইন্টারনেট মারকেটারদের প্রয়োজনীয়তা আরো বেড়ে যাবে। তাই আপনি যদি একজন ভালো মানের ইন্টারনেট মার্কেটার হয়ে উঠতে পারেন এবং সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারেন তাহলে নিশ্চিত থাকতে পারেন ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং অপেক্ষা করছে আপনার জন্যই ।

৪ – হতে পারেন ওয়েব ডিজাইনার/ডেভেলপার

web-designerবর্তমান সময়ে ওয়েবসাইট ছাড়া অনলাইনে কিছুই চিন্তা করা যায় না। তথ্যপ্রদান থেকে শুরু করে শুধু হাত দিয়ে স্পর্শ করা ছাড়া এমন কিছুই নেই যে ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে পাবেন না। এখন যেমন একটি দেশের প্রধানমন্ত্রীর নিজের ওয়েবসাইট থাকে আবার একজন জনসাধারণ এর ও নিজের ওয়েবসাইট রয়েছে। এবং তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এখনকার এই যগে যেমন ওয়েবসাইট ছাড়া কিছুই ভাবা যাচ্ছে না ঠিক তেমনি ভাবে আগামী দিন গুলতে ও ওয়েবসাইট লাগবেই। হয়তো এর অনেক কিছুই পরিবর্তন হবে কিন্তু এটি নিঃশেষ হয়ে যাবে না।

আর ওয়েবসাইট যেহেতু থাকবে সেহেতু দরকার হবে ওয়েব ডিজাইনারের ও ওয়েব ডেভেলপারদের। তাই আপনি যদি একজন ভালোমানের ওয়েব ডিজাইনার বা ডেভেলপার হতে পারেন তাহলেও আপনি অনলাইনে নিশ্চিত ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোতে দিনদিন বেড়েই চলেছে ওয়েব এর কাজের চাপ। কাজ করা ফ্রিল্যান্সার ও যেমন বাড়ছে তেমনি তার সাথে তাল মিলিয়ে বাড়ছে কাজের পরিমাণ ও। তাই হয়ে উঠুন এখন ভালো ওয়েব এর কারিগর, আর নিশ্চিন্তে থাকুন আপনার অনলাইন ক্যারিয়ার নিয়ে।

উপরোক্ত এই ৪টি ক্ষেত্র সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং এ। তবে এছাড়াও আরো অনেক বিষয় আছে যেমন ভিডিও এডিটিং, ফটোগ্রাফি, এনিমেশন, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ডাটা এন্ট্রি ইত্যাদি। আপনি চাইলে এসকল বিসয়ের উপরেও ফ্রিল্যান্সিং করতে পারেন।

ফ্রিল্যান্সিং এর সাথে মার্কেটপ্লেস গুলিয়ে ফেলবেন না

অনেকেই মনে করেন ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং এর কাজ পাওয়া মানেই শুধুমাত্র মার্কেটপ্লেস এ বিড করা। ফ্রিল্যান্সিং এর কথা শুনলেই সবার চোখে ভেসে ওঠে ওডেক্স, ফ্রিল্যান্সার, ইল্যান্স এর কথা। তার মানে আমাদের ভ্রান্ত ধারণা হয়ে গিয়েছে যে ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে শুধু মার্কেটপ্লেসেই কাজ করতে হবে। আসলে তা মোটেও ঠিক নয় !

কেন শুধু মার্কেটপ্লেসের উপর ভরসা করে থাকবেন আপনি? এমন ও হতে পারে যে ওডেক্স বন্ধ হয়ে গিয়েছে, হয়তো তার জায়গায় নতুন কেউ আসবে। কিন্তু তাই বলে কি ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং বন্ধ হয়ে থাকবে? না থাকবে না। কারণ মার্কেটপ্লেস গুলোতে যে পরিমাণ কাজ আসে তা পুরো পৃথিবীর ফ্রিল্যান্সিং/ আউটসোর্সিং কাজের অর্ধেকেরও  কম! তার মানে ৫০ ভাগের বেশি কাজ বিলি হয় এই মার্কেটপ্লেসের বাহিরে।

তার মানে মার্কেটপ্লেস থাক বা না থাক আউটসোর্সিং বন্ধ হবে না। তাই যারা দিন দিন মার্কেটপ্লেস এর উপর নির্ভর হয়ে পড়ছেন তাঁদের জন্য উপদেশ থাকবে আপনারা মার্কেটপ্লেসের বাহিরে কাজ নিয়ে আসতে শুরু করুন। যোগাযোগ করার চেষ্টা করুন বাহিরের বড় বড় আউটসোর্সিং কোম্পানি গুলোর সাথে। হয়তো বড় কোন কাজ পেয়েও যেতে পারেন। যদি সরাসরি যোগাযোগ করতে না পারেন তাহলে একটি ওয়েবসাইট খুলে আপনি সার্ভিস দেয়া শুরু করুন। সেটা হতে পারে ডিজাইন, ডেভেলপমেন্ট, মার্কেটিং, লেখা লিখি ইত্যাদি। আপনার সাইটকে সবার মাঝে পৌঁছে দিন। দেখবেন একটি সময় সে সকল কোম্পানি গুলো নিজ থেকেই আপনার সাথে যোগাযোগ করবে কাজের ব্যপারে। এভাবেই আপনি ও গড়ে তুলতে পারেন একটি আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান, দিতে পারেন বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে। এবং নিজের ক্যারিয়ারকে নিশ্চিন্ত করতে।

আশা করি এতোক্ষনে যাঁদের ভ্রান্ত ধারণা ছিলো ফ্রিল্যান্সিং/আউটসোর্সিং ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে, তাদেকে কিছুটা হলেও আশ্বস্ত করতে পেরেছি যে ফ্রিল্যান্সিং/আউটসোর্সিং ভবিষ্যৎ অন্ধকার নয়।

আগামী পোষ্টে আবারো দেখা হবে সবার সাথে, সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন আর ভালো করে কাজ শিখে নিজের নিশ্চিত ক্যারিয়ারের দিকে ছুটে চলুন। ধন্যবাদ সবাইকে।



Leave Your Comments